ভিডিও নাকি বই? - ইফফাত হাছান অমি
বিভিন্ন OTT(Over-the-top) প্ল্যাটফর্মে আজকাল বিভিন্ন উপন্যাস-গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত হয় বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ কিংবা মুভি। দেশের পরিচালক-অভিনয়শিল্পীরা এর মাধ্যমে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন এবং তারা এটার যোগ্যও বটে। কাগজে লিখিত উপন্যাসকে স্ক্রীনে যে পরিচালক যত রোমাঞ্চকরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন, যে অভিনয়শিল্পী যত বাস্তবিক অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন তিনি ততই প্রশংসিত হয়েছেন। একটা ভিডিও তৈরিতে যে শুধু পরিচালক ও অভিনয়শিল্পিদের অবদানই আছে তা নয়। বরং মেক-আপ আর্টিস্ট, এডিটরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বও মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কোনো সিনকে লোভনীয় করে তোলার ক্ষেত্রে একজন ভিডিও এডিটরের ভূমিকা অপরিসীম। তবে একজন নতুন দর্শক হিসেবে আপনি কোনটি উপভোগ করে অধিক লাভবান হবেন? উপন্যাস-গ্রন্থটি পড়া? নাকি ভিডিও আকারে উপস্থাপিত ওয়েব সিরিজ বা মুভিটি দেখা? আপনার মতামত প্রদানের স্বাধীনতা আপনার হাতে ছেড়ে দিলাম। তবে আমার মতামত হলো উপন্যাস-গ্রন্থটি পড়া। আপনি যখন কোনো ভিডিও দেখেন, সেক্ষেত্রে পরিচালক স্ক্রিপ্ট পড়ে যেরূপ দৃশ্য কল্পনা করেছেন এবং সে অনুযায়ী যেরূপ দৃশ্যায়িত করেছেন আপনি সেটিই দেখেন। অর্থাৎ ভিডিওতে চলমান দৃশ্যটি পরিচালকের কল্পনার জগৎ। ভিডিওটি আপনি আপনার চোখে নয় বরং পরিচালকের চোখে দেখেন। তাছাড়া এডিটর যেভাবে দৃশ্যটিকে লোভনীয় করেছেন আপনি সেভাবেই আকৃষ্ট হন। আর যখন একটি বই পড়া হয় তখন আপনি মুক্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ পান। সেক্ষেত্রে আপনার নতুন একটি কল্পনার জগৎ তৈরি হয়। বইয়ে লিখিত দৃশ্যটির কাল্পনিক জগতে আপনি একজন পরিচালক রূপে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পান । দৃশ্যের প্রেক্ষাপটকে আপনি চাইলে নিজের মতো করে সজ্জিত করার সুযোগ পান। আপনি চাইলেই দৃশ্যটির একাধিক রূপ কল্পনা করতে পারেন। যা একটি ভিডিও দেখার মাধ্যমে সম্ভব নয়। একজন ভিডিও এডিটর যেমনিভাবে তার কল্পনার জগতে দৃশ্যটিকে লোভনীয় করার জন্য ভিডিওটিকে এডিট করেন। তেমনিভাবে বইয়ের দৃশ্যটি আপনার কল্পনার জগতে যেভাবে আবির্ভূত হয়েছে আপনি চাইলে সেটিকে সেভাবে সজ্জিত করার সুযোগ পান। দৃশ্যটির জন্য আপনার কল্পনার জগতে আপনিই একজন এডিটর। আপনি চাইলেই আপনার কল্পনার জগতের দৃশ্যটির কালার গ্রেডিং, সেচুরেশন, কনট্রাস্ট, ব্রাইটনেস, নয়েজ, মোশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার কল্পনার জগতে থাকে না কোনো পরিচালকের হস্তক্ষেপ কিংবা কোনো এডিটরের হস্তক্ষেপ। এভাবে আপনি চাইলে আপনার মস্তিষ্কে একাধিক তথ্য ধারণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার সুযোগ পান। দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির করুণ এই মুহূর্তে আমি মোটেও জনগণকে ওয়েব সিরিজ কিংবা মুভি দেখা হতে নিরুৎসাহিত করতে চাই না। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, যদি বই পড়ার সুযোগ থেকে থাকে তবে বইটি আগে পড়া উচিত এবং নিজের কল্পনার জগতে বইয়ের লেখাগুলোকে দৃশ্যায়িত করা উচিত। পরিচালক লেখাটিকে কিভাবে কল্পনা করেছেন সেটা জানার জন্য ওয়েব সিরিজ বা মুভিটি পরবর্তীতে চাইলে দেখা যেতে পারে।

Comments
Post a Comment