Posts

ব্লগসমূহ

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনার ১০১ টি উপায়

Image
  চব্বিশের আন্দোলনে সফলতা পাওয়ার পর দেশের জনগণ আন্দোলনের জোয়ারে শরীরকে আন্দোলিত করতে শুরু করেছে। "চিল্লাইলেই পাই, চুপ থাকলে নাই"— এই প্রতিপাদ্যকে বুকে ধারণ করে মানুষ এখন ঘুম থেকে উঠে দাঁত না মাজতেই ভাবতে শুরু করে, "আজ কোন ইস্যুতে শাহবাগ যাওয়া যায়?" আগে ফাঁকিবাজ স্টুডেন্টরা পরীক্ষায় পাশ করতে বন্ধুদের ভরসায় থাকত— বন্ধুর সাথে কো-অপারেশন করে এক্সাম দেব, পাশ নিশ্চিত। এখনো তারা বন্ধুদের ভরসাতেই থাকে— পরীক্ষার আগে বন্ধুদের সাথে একসাথে আন্দোলনে নেমে যাব, অটোপাশ নিশ্চিত। আগে যেসব স্টুডেন্ট এক্সামে পাশের জন্য “তুই বল, আমি লেখি” ফর্মুলায় বাঁচত, তারা এখন "তুই ব্যানার ধর, আমি স্লোগান দেই" মডেলে আন্দোলনের সিলেবাস শেষ করে ফেলে। কেউ চাচ্ছে অটোপাশ, কেউ হতে চাচ্ছে অটো মেয়র, কেউ চাচ্ছে অটোরিকশা, কেউ চাচ্ছে প্যাডেল, কেউ চাচ্ছে ভার্সিটি, কেউ চাচ্ছে নির্বাচন, কেউ চাচ্ছে অন্য নেতার নির্বাসন, শ্রমিকরা চাচ্ছে বাড়তি কামাই, কেউ চাচ্ছে জামাই। অন্যদিকে আমজনতা চাচ্ছে এসব থেকে 'মুক্তি'। যদিও এসব আন্দোলনের অন্যতম দর্শন হচ্ছে ‘মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিবাদ’, কিন্তু সমস্যা হলো— এই ...

নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বনাম আপামর জনতা - ইফফাত হাছান অমি

Image
বাংলাদেশের 'আপামর জনতা' কেন নতুন শিক্ষা কারিকুলাম মেনে নিতে পারছে না? 'আপামর জনতা'কে বিশেষায়িত করার বেশ বড় একটি কারণ রয়েছে। কেননা যারা গঠনমূলক সমালোচনা করতে পেরেছেন তারা আপামর জনতার কাতারে পড়েন না এবং তাদের গঠনমূলক মতামতকে আমি যথেষ্ট সন্মান করি বটে। তবে আপামর জনতার এই কারিকুলাম মেনে না নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমার প্রত্যক্ষ করা কয়েকটি কারণ তুলে ধরছি। ১) বাঙালি শিক্ষার ফল হাতে হাতে পেতে চায়ঃ বাঙালি জাতি হিসেবে সৌখিন নয়। বাঙালি শিক্ষার ফল হাতে হাতে পেতে চায়। বাঙালিরা চায় তাদের সন্তানেরা '১০০% কমন প্রশ্নব্যাংক', 'সিউর A+'  ট্যাগলাইনযুক্ত বই কিংবা ৫-৬ পৃষ্ঠার শিট পড়বে কিংবা ১০০ টা MCQ পড়ে ২৫ টা MCQ কমন পেয়ে পরীক্ষায় ফাটাফাটি রেজাল্ট করবে। এই যে তারা এই ধরনের শর্টকাট মেথডের সাথে এতদিন অভ্যস্ত হয়ে এসেছে এবং শর্টকাট মেথডগুলোর আউটপুট হাতে হাতে পেয়ে এসেছে, দীর্ঘদিনের এই প্র্যাক্টিসটিই তাদেরকে তাদের অজান্তে বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামের বিপক্ষে লেলিয়ে দিয়েছে। প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'বই পড়া' প...

কালো শাড়ি - পর্ব ০৩(গল্প-সল্প)

Image
দরজাটা খুলে দেখলাম আম্মু এসেছে। -কিরে তোর আম্মু কোথায় গিয়েছিল? -বাড়িওয়ালা আঙ্কেল গলায় ফাঁস নিয়েছেন, আন্টিকে দেখতে গিয়েছিল আম্মু। কথাটা শুনে বাবা ধপাস করে বসে পড়ল। নিশ্চুপ হয়ে পড়ল। বাবা ফ্রেশ হয়ে আসার পর আম্মু বাবাকে খাবার দিলেন। বাবা আর একটি কথাও বলছেন না।  -কি হয়েছে বাবা? তুমি কি যাবে সেখানে?  মাথা নাড়িয়ে না উত্তর দিলেন। বাবাকে হিমেলের আত্মহত্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেও বাবার আচরণের অভিন্ন বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।  আমার কলেজে যাওয়ার সময় হয়েছে। আজকে আমার ফিজিক্স পরীক্ষা। কথায় কথায় ভুলতে বসেছি প্রায়। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম। বের হওয়ার আগে বাবাকে বললাম সময় পেলে যেন আমার জন্য একটা টেবিল ঘড়ি কিনে আনে। বাবার কাছ থেকে কোনো জবাব পেলাম না। বাসা থেকে বেরিয়েই বটগাছটার দিকে তাকালাম। বার বার বটগাছটাকে দেখে খারাপ লাগছিল। অনেকগুলো পাতাই পুঁড়ে কুচকে গিয়েছে। অনেকগুলো পাতা ঝরেও পড়েছে। বেশ বয়স হয়েছে বটগাছটার। এই বটগাছটার সাথে অনেক স্মৃতি আর আবেগ জড়িয়ে আছে আমার। পথে এসে মনে পড়লো ক্যালকুলেটর নিই নি। এখন ক্যালকুলেটরের জন্য বাসায় গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। হঠাৎ বিকাশের সাথে দেখ...

কালো রাত - পর্ব ০২(গল্প-সল্প)

Image
বাসায় এসে ঢুকলাম। রুমে গিয়ে বাতি নিভিয়ে, পাখা চালিয়ে শুয়ে পড়লাম। কলিং বেলের আওয়াজ শুনতে পেলাম। আম্মু তখন রেফ্রিজারেটরের জিনিসপত্র নিয়ে ব্যস্ত। বাবা আসার সময় হয়েছে। দরজা খুলে দেখলাম বাবা এসেছে।  –আজকে বটতলায় যাস নি? -মাত্র আসলাম। -সন্ধ্যাবেলায় প্রতিদিন বটতলায় গিয়ে সময় নষ্ট না করে, ঘরে বসে পড়তে পারিস না বুঝি? বাবার কথার গুরুত্ব না দিয়ে দরজা আটকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। -কথা বলছিস না কেন? রুমে চলে গেলাম। বাবাও চলে গেলেন ওয়াশরুমের দিকে। ফ্রেশ হয়ে আসার পর আম্মু বাবাকে খাবার দিলেন। আমিও বসে পড়লাম। আম্মু আমাকেও খাবার দিলেন। বাবা খাচ্ছিলেন আর একটু পর পর আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে বলে উঠলেন, -পরশু দিন কি কলেজ আছে? -হুম, কেন? -পরশু দিন আমার ছুটি। ভাবছি নতুন একটা রেফ্রিজারেটর কিনব। তুই সাথে থাকলে ভালো হবে। -এখন কেনার কি দরকার? কয়েকদিন পর তো আমরা এমনিতেই এখান থেকে চলে যাবো। -সেটা অবশ্য ঠিক। কথা বলতে বলতে আমার খাওয়া শেষ। হঠাৎ বাবার ফোন বেজে উঠল। ফোনটা বাবার রুমে ছিল। আমি হাত ধুয়ে ফোনটা ধরলাম। বাড়িওয়ালা আঙ্কেল কল করেছেন। অনেক বার হ্যালো, হ্যালো করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না। কল ব্যাক করলাম। ...

কালো ডিম - পর্ব ০১ (গল্প-সল্প)

Image
বাবার ট্রান্সফার হওয়ার প্রাথমিক চিঠি আমাদের হাতে এসে পৌঁছিয়েছে। মাস দু'একের মধ্যে বাবার চাকরির ট্রান্সফরমেশনের সুবাদে আমরা সপরিবারে মেহেরপুর চলে যাবো। এই অভিজ্ঞতা আমাদের নতুন নয়। তিন বছর আগে দিনাজপুর থেকে খাগড়াছড়ির এই এলাকায় আমরা সপরিবারে এসেছিলাম। বাবা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন সিনিয়র ইন্সপেক্টর। এখানকার যে বাসাটায় আমরা ভাড়া থাকি সেটা একেবারে খারাপ বললে অন্যায় হবে। হিমেল ভিলা। বেশ বড়ো-সড়ো রুম। তবে বেশ পুরনো। দোতলায় থাকি আমরা। বিল্ডিংটা দোতলারই। এলাকাটা বেশ নির্জন। নিচতলায় আগে বাড়িওয়ালারা থাকতো। গত বছর তাদের একমাত্র ছেলে হিমেল এর আত্মহত্যার পর, বাড়িওয়ালা আঙ্কেল আর আন্টি তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। মাঝে মাঝে বাবার সাথে ফোনালাপ হতে শুনেছি। ভাড়ার ব্যাপারে আঙ্কেলের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবে বাবা কখনোই ভাড়া বাকি রাখেন না। হিমেল আমার বয়সে ছোট ছিলো। তবে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেকটা বন্ধুর মতোই ছিলো। হিমেল বেশ রোগা-পাতলা ছিল। চুলে আর্মি কাট। মোটা কাঁচের চশমা পরতো। আমাদের বাসার পিছন দিকে খানিকটা দূরে একটা কোচিং সেন্টার আছে। আমি আর হিমেল ঐ কোচিং সেন্টারেই পড়তাম। খুব বেশি শিক্ষার্থী ছি...

ভিডিও নাকি বই? - ইফফাত হাছান অমি

Image
বিভিন্ন OTT(Over-the-top) প্ল্যাটফর্মে আজকাল বিভিন্ন উপন্যাস-গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত হয় বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ কিংবা মুভি। দেশের পরিচালক-অভিনয়শিল্পীরা এর মাধ্যমে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন এবং তারা এটার যোগ্যও বটে। কাগজে লিখিত উপন্যাসকে স্ক্রীনে যে পরিচালক যত রোমাঞ্চকরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন, যে অভিনয়শিল্পী যত বাস্তবিক অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন তিনি ততই প্রশংসিত হয়েছেন। একটা ভিডিও তৈরিতে যে শুধু পরিচালক ও অভিনয়শিল্পিদের অবদানই আছে তা নয়। বরং মেক-আপ আর্টিস্ট, এডিটরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বও মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কোনো সিনকে লোভনীয় করে তোলার ক্ষেত্রে একজন ভিডিও এডিটরের ভূমিকা অপরিসীম। তবে একজন নতুন দর্শক হিসেবে আপনি কোনটি উপভোগ করে অধিক লাভবান হবেন? উপন্যাস-গ্রন্থটি পড়া? নাকি ভিডিও আকারে উপস্থাপিত ওয়েব সিরিজ বা মুভিটি দেখা? আপনার মতামত প্রদানের স্বাধীনতা আপনার হাতে ছেড়ে দিলাম। তবে আমার মতামত হলো উপন্যাস-গ্রন্থটি পড়া। আপনি যখন কোনো ভিডিও দেখেন, সেক্ষেত্রে পরিচালক স্ক্রিপ্ট পড়ে যেরূপ দৃশ্য কল্পনা করেছেন এবং সে অনুযায়ী যেরূপ দৃশ্যায়িত করেছেন আপনি সেটিই দে...

কম্পিউটারের আদ্যোপান্ত - ইফফাত হাছান অমি

Image
কম্পিউটার শব্দের অর্থ গননাকারী যন্ত্র। 'গননা' এবং 'সংখ্যা' শব্দ দুটি একে অপরের সাথে অঙ্গা-অঙ্গী ভাবে জড়িত।  কম্পিউটারকে বর্তমানে শুধুমাত্র গননার কাজে ব্যবহার না করা হলেও, বর্তমান কম্পিউটারের সবকিছুই সংখ্যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। গননা ও সংখ্যা পদ্ধতি ক্রমে ক্রমে সংস্কার সাধিত হয়ে কম্পিউটার আজ এ পর্যন্ত এসেছে। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সংখ্যার মাধ্যমে গননা করে আসছে। গননার কাজে যোগ-বিয়োগ সহজে করার জন্য মানুষ হাতের আঙুল, পশুর হাড়, পুঁতি, লাঠি ব্যবহার করতো। সে হিসেবে  হাত, পশুর হাড়, লাঠি ও পুঁতিকেই প্রথম গননাকারী বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। অ্যাবাকাসঃ আঙুল, পশুর হাড়, পুতি, লাঠি দ্বারা বড় সংখ্যার গননা করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিলো বলে মানুষ সহজ যোগ ও বিয়োগের জন্য মেসোপটেমিয় সভ্যতায় প্রায় ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বে অ্যাবাকাস আবিষ্কার করে। এর দ্বারা যোগ-বিয়োগ ও যোগ-বিয়োগ হতে উদ্ভুত গুন-ভাগও করা যেত। এর দ্বারা তৎকালীন সময়ে শুধু যোগ ও বিয়োগের কাজ করা হতো।  পরবর্তীতে গুন ও ভাগের নিয়মও আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু এর গুন ও ভাগের প্রক্রিয়াটি তেমন সহজ ছিল না। তবে, এ প্রক্রিয়াটিকে একটি যন্ত্রের রূপ দেওয়ায় এ...