আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনার ১০১ টি উপায়
চব্বিশের আন্দোলনে সফলতা পাওয়ার পর দেশের জনগণ আন্দোলনের জোয়ারে শরীরকে আন্দোলিত করতে শুরু করেছে। "চিল্লাইলেই পাই, চুপ থাকলে নাই"— এই প্রতিপাদ্যকে বুকে ধারণ করে মানুষ এখন ঘুম থেকে উঠে দাঁত না মাজতেই ভাবতে শুরু করে, "আজ কোন ইস্যুতে শাহবাগ যাওয়া যায়?" আগে ফাঁকিবাজ স্টুডেন্টরা পরীক্ষায় পাশ করতে বন্ধুদের ভরসায় থাকত— বন্ধুর সাথে কো-অপারেশন করে এক্সাম দেব, পাশ নিশ্চিত। এখনো তারা বন্ধুদের ভরসাতেই থাকে— পরীক্ষার আগে বন্ধুদের সাথে একসাথে আন্দোলনে নেমে যাব, অটোপাশ নিশ্চিত। আগে যেসব স্টুডেন্ট এক্সামে পাশের জন্য “তুই বল, আমি লেখি” ফর্মুলায় বাঁচত, তারা এখন "তুই ব্যানার ধর, আমি স্লোগান দেই" মডেলে আন্দোলনের সিলেবাস শেষ করে ফেলে। কেউ চাচ্ছে অটোপাশ, কেউ হতে চাচ্ছে অটো মেয়র, কেউ চাচ্ছে অটোরিকশা, কেউ চাচ্ছে প্যাডেল, কেউ চাচ্ছে ভার্সিটি, কেউ চাচ্ছে নির্বাচন, কেউ চাচ্ছে অন্য নেতার নির্বাসন, শ্রমিকরা চাচ্ছে বাড়তি কামাই, কেউ চাচ্ছে জামাই। অন্যদিকে আমজনতা চাচ্ছে এসব থেকে 'মুক্তি'। যদিও এসব আন্দোলনের অন্যতম দর্শন হচ্ছে ‘মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিবাদ’, কিন্তু সমস্যা হলো— এই মুক্তির পথে গাড়ি-ঘোড়া আটকে থাকে চার ঘণ্টা, হাসপাতালে রোগী পৌঁছায় না। আর ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যেতে সময় লাগে এক যুগ। তাই দরকার দ্রুত ও কার্যকরী সমাধান। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান তুলে ধরা হলো, যেগুলোর গুরুত্ব উদ্দীপকের গুরুত্বের মতোই অপরিসীম।
১. "এক জাতি, এক মঞ্চ" আইন চালু করা:
সব পেশার মানুষ আলাদা আলাদা ইস্যুতে আন্দোলনে নামছে—এটা দেশের Bandwidth এর অপচয়। সরকার নতুন আইন করে দিতে পারে: “মাসে একবারই আন্দলন করা যাবে। যে যার দাবির কাগজ জমা দিবে, পরে একসাথে মঞ্চে তা পাঠ করে শোনানো হবে।” আলাদা আলাদা জায়গায় আন্দোলন থামানোর জন্য এক্ষেত্রে শাহবাগকে 'জাতীয় আন্দোলন চত্বর' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। ফলে শাহবাগে একই মঞ্চে ‘রিকশা ভাড়া বাড়াও’, ‘বিড়ির দাম কমাও’, ‘বিয়ে করিয়ে দাও’— সব দাবি একসাথে শোনা যাবে। শব্দদূষণ কমবে, পরিবেশও বাঁচবে, পুলিশও শান্তিতে ঘুমাতে পারবে।
২. শাহবাগ ফিল্ম সিটি নির্মাণ:
আগে বলিউডের সিনেমা দেখে ভাবতাম, "এরা কিভাবে রাস্তায় শুটিং করে? মানুষের ভোগান্তি হয় না?" পরে জানতে পারলাম, মুম্বাইতে নাকি একটা কাল্পনিক ফিল্ম সিটি আছে যেখানে ডামি মন্দির, রাস্তা, নদী, রাজপ্রাসাদ সবই আছে। সেখানেই এসব শুট হয়। পরে বুঝলাম সালমান, শাহরুখ ঐ কাঠের নকল বাড়িতে ফাইট করেই দুনিয়া তছনছ করে দেয়। সরকারি অর্থায়নে শাহবাগেও এরকম একটি ফিল্ম সিটি নির্মাণ করা যেতে পারে। সেখানেও থাকবে ডামি রেডিমেড মঞ্চ। থাকবে শত শত নকল সাংবাদিক আর ক্যামেরা। থাকবে ডামি টিভি চ্যানেল। চুক্তিভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে আন্দোলনকারীরা মঞ্চ ভাড়া করে সেখানে আন্দোলন করবে। নো ঝামেলা, নো প্যারা, নো ভোগান্তি। মুম্বাই ফিল্ম সিটি যেমন এখন একটা টুরিস্ট স্পট, ঠিক তেমনি আমাদের শাহবাগ ফিল্ম সিটিও একদিন টুরিস্ট স্পট হবে। যা দেশের অর্থনীতির চাকাকেও সচল রাখবে। সকালে “গণজাগরণ”, বিকেলে “গণঅনশন”, আর রাতে “গণসংলাপ”—সব কিছু হবে টাইম শিডিউল অনুযায়ী। পর্যটকরা ২০ টাকা টিকিটে দেখতে পাবে 'লাইভ দেশপ্রেম’।
৩.'Virtual Shahbag' মোবাইল অ্যাপ চালু করা:
Work From Home নীতির সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে 'Virtual Shahbag' নামক একটি মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপ করা যেতে পারে। অ্যাপটির মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা ঘরে বসেই আন্দোলন করতে পারবে। যেখানে একটি বাটনে প্রেস করলেই সবার ফোনে তাদের আন্দোলনের দাবিটির নোটিফিকেশন চলে যাবে এবং বেজে উঠবে তাদের দাবির অডিও হুংকার। অ্যাপটিতে দফা অ্যাড করার অপশন থাকবে। চাইলে মাল্টিপল দফা বাতিল করে এক দফা অ্যাড করা যাবে। অ্যাপটিতে পারফরম্যান্স মনিটরিং এর অপশন থাকবে। আন্দোলন শেষে কে ছিল আন্দোলনটির মূল মাস্টারমাইন্ড?— তা এই পারফরম্যান্স মনিটরিং অপশন থেকে অটো সিলেক্ট হয়ে যাবে। ফলে কে ছিল আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড তা নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কামড়াকামড়ি বন্ধ হবে। অ্যাপটিতে কয়েকটি মোড বা স্টেপ থাকবে। যেমন: প্রথমেই থাকবে 'নরমাল আন্দোলন মোড', তারপর 'মার্চ ফর যমুনা মোড', তারপর '২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম মোড', তারপর 'আমরন অনশন মোড'। ইউজার ধাপে ধাপে প্রয়োজন অনুসারে মোডগুলো অ্যাক্টিভ করবে। সফল আন্দোলন শেষে থাকবে রিওয়ার্ড বা পয়েন্ট কালেক্ট করার সুবর্ণ সুযোগ। যেগুলো ব্যবহার করে চাইলে অনলাইনে সিঙ্গারা আর কোক কেনা যাবে।
৪. 'আন্দোলন Permits' চালু করা:
আন্দোলনকারীরা Google Form পূরণ করে Permit Number নিবে। Google Form এ নিজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ড নং ইত্যাদি তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। কারো আন্দোলনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ১০০০ এর বেশি লাইক পড়লে আন্দোলনের জন্য তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। যা আন্দোলনের রিচ কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে। সরকারিভাবে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গকে নোটিশ পাঠাতে হবে যেন আন্দোলনের পোস্টে বুস্ট অপশন অফ করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনের পোস্টের যেন রিচ কমিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া ফর্ম পূরনের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে আন্দোলনে মানুষ কম হবে।
৫. 'আন্দোলন পয়েন্ট' লয়ালিটি প্রোগ্রাম:
যারা সপ্তাহে একবারও আন্দোলনে অংশ নেবে না তারা পাবে 'সিলভার মুভমেন্ট কার্ড'। যারা মাসে একবারও আন্দোলনে অংশ নেবে না তারা পাবে 'গোল্ডেন মুভমেন্ট কার্ড'। আর যারা বছরে একবারও আন্দোলনে অংশ নেবে না তারা পাবে 'ডায়মন্ড মুভমেন্ট কার্ড'। এসব কার্ড এর ভিন্ন ভিন্ন ভ্যালু থাকবে৷ কারো কাছে এসব কার্ড থাকলে সে সরকারি চাকরি, জরুরী স্বাস্থ্যসেবা, বিভিন্ন এক্সাম ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ফলে মানুষ আন্দোলনের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠবে। ফলে সরকারও ম্যাচিউর্ড ও ধৈর্যশীল প্রার্থী খুঁজে পাবে।
সুতরাং, এই অস্থিরতা বন্ধ করতে সরকারের দরকার স্টার্টআপ মাইন্ডসেট। ট্র্যাডিশনাল পলিসিতে চলবে না। শাহবাগ এখন দেশের আনঅফিশিয়াল সংসদ— যেখানে জনগন স্লোগানে স্লোগানে সংবিধান রচনা করে।

Outstanding!!
ReplyDelete